আত্মদিবস – Motivation from ঝংকার মাহবুব ভাই

পুরো লিখাটার Credit: Jhankar Mahbub ভাইয়ের…নিজেকে নিজের মোটিভেশান দেয়ার জন্য আমার ব্লগে রেখে দিলাম 🙂

সপ্তাহে একদিন, মাসে অন্ততঃ দুইদিন কি নিজের জন্য রাখা যায় না? স্রেফ নিজের জন্য। সেদিন টিভি দেখলা না, ফেইসবুকিং করলা না, বাইরে ঘুরাঘুরি-আড্ডা দিলা না। কেউ দেখা করতে চাইলে তাকে শরীর খারাপ কিংবা দেশ থেকে চাচা আসছে- চাচাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে বলে- দেখা করলা না। দিনের প্রায় সবটুকু সময় নিজের জন্য রাখবা। আর এই দিনকে বলবা- আত্নদিবস।
.
প্রত্যেকটা আত্নদিবস কিভাবে উদযাপন করবা সেটা আগে থেকে ঠিক করে রাখবা। এমন কিছু একটা করলা, যেটা অনেকদিন ধরে করতে চাইতেছো কিন্তু করা হয়ে উঠতেছে না। এমন কিছু একটা শিখলা, যেটা অনেক দিন ধরে শিখবো শিখবো করে আশা করতেছো কিন্তু পড়াশুনার ঠেলায়, ফাঁকিবাজির মেলায় করা হয়ে উঠতেছে না। সেটা হতে পারে গিটারের কর্ড ধরতে শিখা, ক্যামেরার অপশনগুলা ভালো করে গুঁতায় গাতায় দেখা, পত্রিকায় আর্টিকেল লেখা, ফটোশপ বা কোন সফটওয়্যার বা প্রোগ্রামিং এর একটা বাংলা বই নিয়ে দেখে দেখে ১০০ পাতা পর্যন্ত যা যা করতে বলছে তা তা করে ফেলা, কিংবা প্রিয় মানুষটাকে মুগ্ধ করার জন্য তাকে নিয়ে কোন হেব্বি রোমান্টিক একটা গান লিখে ফেললা। জাস্ট একটা দিনই তো। সেদিন অন্যদের সাথে একটু কম মজা করে নিজের ইচ্ছার পূরণের আনন্দ করলা।
.
স্টুডেন্ট লাইফে কয়েকদিন পরপর আত্নদিবস পালন করতে পারলে, খুব সহজেই ৯৫% পোলাপানরে পিছনে ফেলে দিতে পারবে।মনে রাখবা, পাশ করে গেলে চাকরির প্রেসারে, বিয়ে করলে সংসারের চাপে, পোলা-মাইয়া পয়দা হইলে তাগো ক্যাচালে, নিজের ইচ্ছা- নিজের স্বপ্নের অনেক কিছুই হারিয়ে যাবে। তখন যাতে- আফসোস না থাকে সেই জন্যই আত্নদিবস।
.
আত্নদিবসের আউটকাম হবে- ফিউচারের আফসোস বাক্স খালি রাখা। যাতে বুড়া বয়সে বলা না লাগে- আরেকটু সময় দিলে টপ লেভেলের এথলেট হতে পারতাম, ঐখানে রেগুলার প্রাকটিস করতে পারলে হয়তো টিভিতে গান গাইতে পারতাম। ওদের মতো পড়ালেখা করলে আমিও হায়ার স্টাডির জন্য দেশের বাইরে যেতে পারতাম। কিংবা সময়মতো শুরু করলে হয়তো বিসিএসে চান্স পেয়ে যেতাম।
.
তাই আত্নদিবসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, নিজের সখ- স্বপ্ন, ইচ্ছা, আশাটাকে হাতের নাগালে আনার জন্য ডিডিকেটেড সময় ইনভেস্ট করা। পুরা একদিন ম্যানেজ করতে না পারলে অর্ধেক অর্ধেক করে দুই দিন মিলিয়ে একটা আত্নদিবস সেট করো। প্রয়োজন হলে তিন ঘন্টা তিন ঘন্টা করে আত্নদিবস পালন করো। তারপরেও আত্নদিবস পালন করতে হবে। কারণ আত্নদিবস পালন না করলে- তুমি আর তুমি হয়ে উঠতে পারবে না।