Tag Archives: diu

আর্ট অফ লিভিং এর ৪ মাস শেষে :)

৪ টা মাস পেয়েছি আমি…এই কটা দিন কেদেছি,হেসেছি,নতুন করে ভালবাসতে শিখেছি নিজেকে ,বাবা মাকে আর আমার পারিপার্শিক অবস্থাকে…দুঃখের মাঝে বাচতে শিখেছি ঐক্যের সাথে…গেয়েছি জয়গান…শপথ করেছি, ভাল থাকার ভাল রাখার…কতটুকু দিতে পেরেছি জানি না তবে শিখেছি অনেক কিছুই…হয়ত কালের বিবর্তনে আমি বুড়ো হব…চামড়া থেকে শুরু করে হাড়গোড় সব মাটির সাথে মিশে একাকার হয়ে যাবে…কিন্তু তার আগে একদিন আমার বাচ্চা কাচ্চা কে বলে যাব জানিস আমাদের ভার্সিটিতে একটা কোর্স ছিল আর্ট অফ লিভিং যেখানে গোটা ২৫০ জন ছেলেমেয়ে আমরা এক সাথে কেদেছি……আমাদের বাবা-মা রা আমাদের কান্না দেখেছে

অগ্রজ কিংবা ভবিতব্য অনুজ উভয়ের কাছ থেকেই হয়ত আমাদের ব্যাচ টা কিছুটা আলাদা…কারণ আমাদের ৩৪ ব্যাচে ঘটে যাওয়া শুভ র জন্য ইউনিটি টা আমাদের আলাদা করেছে…আমাদের সবগুলো সেকশানের একসাথে ক্লাশ করাটা আমাদের আলাদা করেছে………..

এই ৪ টা মাস আপনারা দুজন আমাদের হাসি,আনন্দ বেদনার অংশ হয়ে ছিলেন…অন্যান্য কোর্স এর প্রয়োজনে হয়ত সারারাত জাগতে হয়েছে আমার…কিন্ত ঢুলুঢুলু চোখে পরদিন সকালে আর্ট লিভিং ক্লাসে এসেছি…একবারো মনে হয়নি যে ঘুম বাদ দিয়ে সকাল সকাল ক্লাস করাটা চাপ… বরং আর্ট অফ লিভিং ক্লাসটা তুলনা করেছি লেবু দেয়া এক কাপ লাল চা খাওয়ার পরের রিফ্রেশড মুহুর্ত টির সাথে..যেখানে সব জীর্ণতা মুছে যায়…….লেবু চা আমার ভীষণ প্রিয় তাই লেবু চা এর সাথে তুলনা করলাম… আর সেই রিফ্রেশড মুহুর্ত টি থেকে নতুন ব্যাঞ্জনায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার সৎ সাহস পেয়েছি…আগামীকাল সকাল ৮:৩০ মিনিটে এই ক্লাস টা করতে পারব না বলে কিছুটা খারাপ লাগছে…তবে ভাল লাগছে এই ভেবে যে অসম্ভব সব প্রতিকুলতার মাঝেও সফল ভাবে কোর্স টা শেষ করেছি

স্যার কথাদিন আপনারা আমাদের কখনো ভুলবেন না…একজন মহান শিক্ষক হিসেবে রাজু স্যার এবং তার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে সজল স্যার আমাদের কথা আমাদের অনুজদের বলবেন…স্যার আমাদের তরফ থেকে কোনো প্রকার ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে আমাদের মাফ করে দিবেন…আর অজস্র দোয়া করবেন আপনারা দুজন আমাদের সকলের জন্য…আমরা যেন এই কয়েকটা দিন যা শিখেছি তার প্রয়োগ আমাদের জীবনে সফলভাবে প্রতিফলন করতে পারি… ধন্যবাদ স্যার 🙂

আর্ট অফ ইফেক্টিভ লিভিং এর মিড পরীক্ষা দেয়ার পর আমার কিছু অনুভুতি…

আজকের পরীক্ষা দিয়ে আমার কিছু ব্যক্তিগত অনুভূতি যা শেয়ার করা প্রয়োজন বলে মনে করছিঃ

১। প্রাইমারী স্কুল থেকে শুরু করে ভার্সিটি লাইফে আজ পর্যন্ত ফার্স্ট এমন একটা এক্সাম দিয়েছি যাতে কোনো রকমের টেনশন কাজ করে নাই…হয়ত টেনশন যা ছিল সেটা এটা ভেবে যে Part-A এর প্যাসেজ সময়ের মধ্যে পড়ে শেষ করতে পারবো তো ?

২। নিজের অব্যক্ত কথাগুলো জীবনে প্রথম কোনো পরীক্ষার খাতায় তুলে ধরতে পেরেছি…যারজন্য যারপরনাই আমি আনন্দিত

৩। নিজের মনের অন্তঃকোণে যা ছিল তা সত্যিসত্যিই নিংরে তুলে ধরতে পেরেছি…উদাহারণস্বরূপঃ ব্যাপার টা এমন হয়নি যে আমি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই কিন্তু এক্সাম এর খাতায় মাই এইম অফ লাইফের কোয়েশ্চানের উত্তরে কোনো এক বই থেকে মুখস্ত করে লিখে দিয়ে এসেছি আমি ডাক্তার বা অন্য কিছু হতে চাই

৪। সবশেষ কথা পরীক্ষা টা এঞ্জয় করেছি…কিছু সুখী মুহূর্ত পরীক্ষার হলে পার করেছি ভয় শঙ্কাহীন…যা জীবনের অনেক বড় একটা পাওয়া হয়ে থাকবে

ধন্যবাদ স্যার 🙂